Bangla
a year ago

বেক্সিমকোর ১৬ কারখানার ৩১ হাজার শ্রমিক এখন বেকার

বকেয়া মজুরি সমস্যা ও বিভিন্ন উসকানি তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে

সরকারি প্রতিবেদনে আরও ঝামেলার আশঙ্কা করা হয়েছে, সতর্ক থাকার পরামর্শ

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

Published :

Updated :

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত তৈরি পোশাক শিল্পে গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি, সড়ক অবরোধ, হামলা এবং ভাঙচুরের মতো এক হাজারেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলে মোট ১,১০৮টি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু নভেম্বর মাসেই ১৫৮টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে টঙ্গী-গাজীপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৮টি ঘটনা, আশুলিয়া ও সাভারে ৩৩টি এবং ঢাকা মহানগরীতে ২০টি ঘটনা ঘটেছে। এর বেশিরভাগ ঘটনা বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ বিভিন্ন কারণে সংঘটিত হয়েছে।  

এছাড়া, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৪২টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৬৭টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, বাকি ৭৭টি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে। স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো আশুলিয়া, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত, আর সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থিত।

প্রতিবেদনে কাঁচামালের ঘাটতি, শ্রমিক ছাঁটাই, অনিয়মিত মজুরি প্রদান এবং অর্ডারের সংকট শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় আরও ৯৩টি নন-আরএমজি কারখানা বন্ধ হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬টি স্থায়ী এবং ৪৭টি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও ৩৫ জন ব্যক্তির একটি তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শ্রমিক নেতা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং বাকিরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ রয়েছে যে তারা শ্রমিক অসন্তোষে উসকানি দিয়েছেন। প্রতিবেদনে সরকারের প্রতি এই শ্রমিক নেতাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর এবং চিহ্নিতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে বিশেষ এই প্রতিবেদনে শ্রমিক সংগঠনের একটি তালিকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ৫ জানুয়ারি শিল্প, শ্রম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসে ৭৪টি তৈরি পোশাক কারখানা অক্টোবরের বেতন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে জানানো হয়, জানুয়ারিতে ৭৭টি পোশাক কারখানা ডিসেম্বরের বেতন দিতে ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে, এসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এছাড়া, বেক্সিমকো গ্রুপের আওতাধীন ১৬টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৩১ হাজার পোশাক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিকল্প হিসেবে শ্রমিকদের বিদেশে শ্রম অভিবাসনকে উৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যথায়, এই বেকার শ্রমিকরা অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

গত অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা দেশের বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে আরও কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বকেয়া মজুরি পরিশোধে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা।

প্রতিবেদনটিতে আরও সুপারিশ করা হয়েছে, মজুরি ও বকেয়া পরিশোধের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘোষণা করা উচিত। এছাড়া কারখানাগুলো সময়মতো মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করা এবং শ্রমিক অসন্তোষে কোনো বিদেশি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করতে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

গত ১ আগস্ট থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে ৩১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৭১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪১ জন জামিনে আছেন। এছাড়া, তালিকাভুক্ত ৩৫ জন উসকানিদাতার মধ্যে ২ জনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে এবং ৯২ জন শ্রমিকের ওপর নিয়মিত নজরদারি নেই।

আরও কিছু সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, ঝুট বা তৈরি পোশাকের বর্জ্য বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা এবং সকল শ্রমিক যাতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে টিসিবি কার্ড পায় তা নিশ্চিত করা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, "আমরা প্রতিবেদনটি পেয়েছি এবং এ নিয়ে কাজ করছি।" তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করা হবে। তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

Share this news